ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় সৌন্দর্য হারাচ্ছে গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-১১ ১৯:৩৩:৫৫
দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় সৌন্দর্য হারাচ্ছে গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় সৌন্দর্য হারাচ্ছে গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত এখন দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনার চাপে ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার চিরচেনা রূপ। একসময় সবুজ ঘাসে ঢাকা বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, আঁকাবাঁকা খাল আর বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির মিলনে যে সৈকত পর্যটকদের মুগ্ধ করত, আজ সেখানে চোখে পড়ে পলিথিন, প্লাস্টিক, ময়লা-আবর্জনা আর অপরিকল্পিত স্থাপনার ভয়াবহচিত্র। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে হুমকির মুখে পড়বে গুলিয়াখালীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুলিয়াখালী সৈকতের মূল সৌন্দর্য ছিল সবুজ ঘাসে মোড়ানো বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। দূর থেকে দেখলে মনে হতো, যেন সাগরের বুকে বিছিয়ে রাখা সবুজের বিশাল গালিচা। কিন্তু বর্তমানে সেই সৌন্দর্যের বুক চিরে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট, অস্থায়ী স্থাপনা ও বর্জ্যের স্তূপ। সৈকতের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র পড়ে থাকতে দেখা যায় প্লাস্টিক বোতল, খাবারের প্যাকেট, পলিথিন ব্যাগসহ নানা ধরনের আবর্জনা।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, অপরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং অসচেতন পর্যটকদের আচরণে দিন দিন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে গুলিয়াখালীর পরিবেশ। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম হলেও নেই পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কিংবা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। অনেক পর্যটক খাবারের প্যাকেট ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলে চলে যাওয়ায় দূষিত হচ্ছে পুরো এলাকা।

তাদের মতে, সৈকতের বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি করে তৈরি হওয়া গর্তগুলোতেও ফেলা হচ্ছে পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনা। এতে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছে না, পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

সম্প্রতি পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনার পর প্রশাসন গুলিয়াখালী সৈকতে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও স্থানীয়দের দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই দায়িত্ব শেষ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া গুলিয়াখালীর পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, গুলিয়াখালী বিচ সরকারি সম্পত্তি। সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটন পুলিশের ক্যাম্প, গণশৌচাগার, বসার স্থান এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ